in

ডিপ্রেশন রোগ নির্ণয় করার কিছু সহজ উপায়

ডিপ্রেশনঃ ১ম পর্ব

ডিপ্রেশন

ডিপ্রেশন বা হতাশা-বিষন্নতা সাধারন জ্বর ঠান্ডার মতই একটি ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন। আপনি ডিপ্রেশনে ভুগছেন কিনা এটা বোঝার সহজ কিছু লক্ষন হল কারণ ছাড়াই মন খারাপ থাকা এবং এই সমস্যাগুলো ঘন ঘন হওয়া ও তীব্র হওয়া। যদিও ডিপ্রেশনের চিকিৎসা ব্যক্তি বিশেষে এবং তীব্রতার উপর ভিত্তি করে ভিন্ন হয়ে থাকে তবে কিছু বিষয় আছে যেগুলো মোটামটি সকল ধরনের রোগীদের জন্যেই ভালো কাজে দেয়। এছাড়াও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে, আপনি ডিপ্রেশনের লক্ষণগুলোকে কমিয়ে আনতে এবং আপনার জীবনের উপর ডিপ্রেশনের প্রভাব কমাতে সক্ষম হতে পারেন। ডিপ্রেশন নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার ১ম পর্বে আমরা আজকে কীভাবে এই ভয়ংকর রোগটি নির্ণয় করবেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। চলুন তাহলে শুরু করি।

১। ২ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন কেমন অনুভব করছেন তা ট্র্যাক করুন

আপনার যদি ডিপ্রেশড মুড থাকে, যেমন দুঃখের অনুভূতি, এবং আপনি যে বিষয়গুলোতে আগে আনন্দ পেতেন সেগুলিতে আগ্রহ বা আনন্দ হারিয়ে ফেলেছেন, তাহলে আপনি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হতে পারেন। এই লক্ষণগুলো দিনের বেশিরভাগ সময় এবং প্রায় প্রতিদিন কমপক্ষে ২ সপ্তাহ থাকলে সেটাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা জরুরী।   

এই লক্ষণগুলো ২ সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় ধরে থাকতে পারে এবং থেমে থেমে আবারো ফিরে আসতে পারে। এগুলি মুডের গুরুতর পরিবর্তন যা সামাজিকভাবে বা আপনার কাজের যায়গাতেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। হয়ত আপনি স্কুলে বা কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। অথবা অফিসের কাজে আর মনোযোগ দিতে পারছেন না। এই হতাশা, বিষণ্ণতা, মন খারাপ ভাব ইত্যাদি অনুভূতিগুলো আপনাকে আপনার প্রিয় কিছু শখ বা কার্যকলাপের প্রতি আগ্রহ নষ্ট করে দিতে পারে, যেমন খেলাধুলা করা, কারুশিল্প করা বা বন্ধুদের সাথে দেখা করা ইত্যাদি।

২। বিষন্নতার অন্যান্য উপসর্গগুলোতে মনোযোগ দিন

দুঃখ বোধ করা এবং প্রিয় জিনিসগুলোর প্রতি আগ্রহ হারানোর পাশাপাশি, একজন বিষণ্ণ ব্যক্তির মধ্যে দিনের বেশিরভাগ সময়ে, প্রায় প্রতিদিন, কমপক্ষে ২ সপ্তাহের জন্য আরো কিছু লক্ষন দেখা দিতে পারে। যেমনঃ

  • উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষুধা হ্রাস বা ওজন হ্রাস
  • ঘুম ব্যাহত হওয়া (হয় ঘুমাতে অক্ষম বা খুব বেশি ঘুমানো)
  • ক্লান্তি বা শক্তি কমে যাওয়া
  • মূল্যহীনতার অনুভূতি বা অতিরিক্ত অপরাধবোধ
  • মনোনিবেশ করতে অসুবিধা হওয়া বা সিদ্ধান্তহীনতা বোধ করা
  • বারবার মৃত্যু বা আত্মহত্যার চিন্তা, আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মহত্যার পরিকল্পনা করা

৩। আত্মহত্যার চিন্তা বা প্রবণতা

ডিপেশন খুব বেশি মাত্রায় দেখা দিলে আত্নহত্যার মতো চিন্তা বা প্রবণতা লক্ষ্য করা যেতে পারে। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি আত্মহত্যার চিন্তা করে থাকেন, অনুগ্রহ করে অবিলম্বে ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হোন। কারণ এই ধরনের গুরুতর সমস্যার জন্য অভিজ্ঞ এবং পেশাদার কারো সাহায্য ছাড়া এই চিন্তাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।

৪। ডিপ্রেশন এবং সাধারন মন খারাপ ভাবের মধ্যে পার্থক্য বুঝুন

কাজের প্রেশার, মানসিক চাপ, জীবনে কোন নেতিবাচক ঘটনা ইত্যাদি নানাবিধ কারনে মন খারাপ হতে বা খারাপ লাগার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ডিপ্রেশন এবং সাধারন মন খারাপ ভাবের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরী। এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করার একমাত্র উপায় হল লক্ষনগুলোর তীব্রতা ও ফ্রিকোয়েন্সি জানা। যদি আপনার প্রায় প্রতিদিন ২ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বিষণ্নতার লক্ষণ থাকে, তাহলে আপনি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হতে পারেন।

৫। গত কয়েক সপ্তাহে আপনি যে কাজগুলো করেছেন তা লিখুন

কর্মক্ষেত্রে যাওয়া বা ক্লাসে যাওয়া থেকে খাওয়া এবং গোসল করা পর্যন্ত প্রতিটি কাজের একটি তালিকা তৈরি করুন। আপনার কার্যকলাপে ডিপ্রেশনের কোন লক্ষন আছে কিনা লক্ষ্য করুন। এছাড়াও লক্ষ্য করুন যে নির্দিষ্ট ধরণের কিছু কাজ যা আপনি সাধারণত স্বেচ্ছায় বা আনন্দের সাথে করেন সেগুলোর ফ্রিকোয়েন্সি কমেছে কিনা। এতে আপনি যদি কোন সন্দেহজনক বা ঝুকিপূর্ন আচরন করেন তাহলে তা বুঝতে পারবেন। তবে আপনি যদি বিষন্ন থাকেন তবে এই কাজটি করা কঠিন হতে পারে। তাই আপনার প্রয়োজনীয় সময় নিন বা একজন বিশ্বস্ত পরিবারের সদস্য বা বন্ধুকে এই তালিকা লিখতে সাহায্য করার জন্য বলুন।

৬। অন্যরা আপনার মুডের পার্থক্য লক্ষ্য করেছে কিনা তা জিজ্ঞাসা করুন

পরিবারের একজন বিশ্বস্ত সদস্য বা বন্ধুর সাথে কথা বলুন যে তারা আপনার আচরণে পার্থক্য লক্ষ্য করেছে কিনা। যদিও একজন ব্যক্তির নিজের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তবে অন্য লোকেদের মতামত বিশেষ করে যারা সেই ব্যক্তিকে ভালভাবে চেনেন তাদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ।

৭। শারীরিক কোন সমস্যার সাথে বিষন্নতার সম্পর্ক আছে কিনা জানুন

কিছু শারীরিক সমস্যা ডিপ্রেশনের উপসর্গ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে থাইরয়েড বা শরীরের হরমোন সিস্টেমের কোন সমস্যা। আপনার এই ধরনের কোন শারীরিক সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসার কারন হিসেবে আপনি বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়েছেন কিনা তা আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।

আশাকরি উপরের বিষয়গুলো অনুসরণের মাধ্যমে আপনি নিজেই বুঝে নিতে পারবেন যে আসলেই আপনি ডিপ্রেশনে আক্রান্ত কিনা। একবার রোগ নির্নয় করা হয়ে গেলে তার চিকিৎসা করাও সহজ হয়ে যায়। তাই আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে আপনি আসলেই এই রোগে আক্রান্ত কিনা। পরের পর্বে আমরা এই রোগের কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রিট্মেন্ট নিয়ে আলোচনা করবো।

What do you think?

Written by সানজিদা আলম

একজন ফ্রিল্যান্স কন্টেন্ট রাইটার। টেকনোলজি, স্বাস্থ্য, প্রোডাক্ট রিভিউ এবং ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে। লেখালেখির পাশাপাশি ভালোবাসি পড়তে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

GIPHY App Key not set. Please check settings

অনলাইন-শপিং

অনলাইন শপিং এর সুবিধা এবং কিছু সতর্কতা

গ্রিনজুসের উপকারীতা

গ্রিন জুসের উপকারীতা এবং কিছু সতর্কতা