in

LoveLove

গ্রিন টির গুনাগুন ও ৮ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি

Green Tea

চা বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় পানীয়। আর চা বা কফির পরেই মানুষ গ্রিন টির প্রতি আসক্ত। বহু শতাব্দী ধরে মানুষ এর বিভিন্ন উপকারিতার জন্য গ্রিন টি কে স্বাগত জানিয়েছে। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর এন্টি-অক্সিজেন যা হজম পক্রিয়াকে বাড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে, তাই  বিশ্বব্যাপী গ্রিন টি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

গ্রিন টি কেন পান করবেন? 

গ্রিন টি হল এক প্রকার “ট্রু টি” যা চা গাছের পাতা থেকে তৈরি হয়। এটি অক্সিডাইজড পাতা থেকে তৈরি হয় এবং সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত চা গুলির মধ্যে একটি। এতে সর্বাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারী পলিফেনল রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। গ্রিন টি নিয়মিত পান করার ফলে অতিরিক্ত মেদ ভুড়ি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে গ্রিন টি খাওয়ার ফলে ত্বকের স্বাস্থ্যকেও ইতিবাচক ভাবে পরিবর্তন করে। তাই সম্প্রতি অনেকেই স্বাস্থ্য সুবিধার কথা চিন্তা করেও গ্রিন টিকে তাদের খাবারের তালিকায় রাখে।

গ্রিন টির ৮ টি  স্বাস্থ্য উপকারিতা

আমরা সবাই কম বেশি গ্রিন টির স্বাস্থ্য সুবিধার কথা জানি। চলুন সেগুলোর মধ্যে ৮টি উল্লেখযোগ্য উপকারী দিক গুলো সম্পর্কে জেনে নেই। 

ওজন কমানো

গ্রিন টির সবচেয়ে পরিচিত গুণাবলির মধ্যে একটি হচ্ছে, এটি ওজন কমাতে বেশ কার্যকরী। বেশির ভাগ গবেষণার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে গ্রিন টি ক্যাফেইন এবং ক্যাটেচিন শক্তি বিপাক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যা ওজন কমাতে সহায়তা করে। মূলত, এটি হজম প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধি করে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমায়। এ ছাড়া এতে থাকা কেটাচিনও অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে।

২ রক্তচাপ কমাতে পারে

গ্রিন টি পানে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে পারে। একটি গবেষণার অংশ হিসেবে ১৬৯৭ জনের উপর উপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে গ্রিন টি পান করলে রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের সবচেয়ে  ঝুঁকি বেশি। উচ্চ রক্তচাপ হল হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের একটি প্রধান কারণ। তাই রক্ত চাপ কমাতে গ্রিন টি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। 

গ্রিন টিতে সর্বাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারী পলিফেনল রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। গ্রিন টি নিয়মিত পান করার ফলে অতিরিক্ত মেদ ভুড়ি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সার সহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

৩ টাইপ-২ ডায়াবেটিস

যারা নিয়মিত গ্রিন টি পান করেন তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম থাকে। গ্রিন টি পানে এবং ফাস্টিং গ্লুকোজ এবং ফাস্টিং ইনসুলিনের মাত্রা হ্রাসের মধ্যে একটি সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। তাই টাইপ ২ ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে এই গ্রিন টি। 

৪ প্রদাহজনক ত্বকের অবস্থার উন্নতি

এটা প্রমাণিত যে,  গ্রিন টি-তে প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।  ক্লিনিকাল স্টাডিজের একটি পরিক্ষায় দেখা গেছে গ্রিন টিতে এপিগালোকাটেচিন-3-গ্যালেট (ইজিসিজি) এর প্রদাহ বিরোধী প্রভাব এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে নিয়মিত গ্রি টি পানে প্রদাহজনক ত্বকের অবস্থা উন্নত করে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের মাইক্রোসার্কুলেশন উন্নত করতে সহায়তা করে।

৫ উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করে 

গ্রিন টি উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এক কাপ গ্রিন টি পানের অভ্যাস আপনার মেজাজ ঠিক করে প্রাণোজ্জল করে তুলতে পারে। তাই নিয়মিত গ্রিন টি খেলে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা সম্পর্কিত লক্ষণগুলি দূর হয়ে যাবে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে গ্রিন টি তে অবস্থিত ক্যাফেইন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড এল-থেনাইন যা দুশ্চিন্তা কমাতে এবং স্মৃতি শক্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। এছাড়াও গ্রিন টি মনোযোগ সহ মস্তিষ্কের অন্যান্য ফাংশনকে প্রভাবিত করতে একসাথে কাজ করে।

৬ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে

গ্রিন টি-তে রয়েছে  ক্যাফেইন সহ বেশ কিছু প্রাকৃতিক উদ্দীপক, যা কফির মতো বেশি না হলেও সতর্কতা এবং মনযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এগুলি ছাড়াও, গ্রিন টি অ্যামিনো অ্যাসিড এল-থেনাইন এর একটি অন্যতম উৎস, যার ফলে একটি শিথিল প্রভাব রয়েছে। এটি ডোপামিন এবং সেরোটোনিন সহ মেজাজ-বর্ধক মস্তিষ্কের রাসায়নিক বৃদ্ধি করে।

৭ শরীরকে সতেজ রাখে

গ্রিন টিতে ফ্লেভোনয়েড নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট  উপাদানের উপস্তিতি পাওয়া যায়। আর এই উপাদান শরীরকে সতেজ রাখে। প্রতিদিন এক বা দুই কাপ গ্রিন টি পানে শরীরকে সতেজ নির্মল করে রাখতে পারে। ত্বক মসৃণ রাখতে ও গ্রিন টি কার্যকরী। এমনকি হার্টঅ্যাটাকের সম্ভাবনা কমানো, ক্যানসার প্রতিরোধ, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে গ্রিন টি।

৮ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গ্রিন টি ভূমিকা রয়েছে। এতে কেটেচিন নামের উপাদান যা ভিটামিন ই ও সির থেকেও বেশি শক্তিশালী। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ও সুস্থ্য থাকতে গ্রিন টি বেশ  উপকার করে।

গ্রিন টি কি সবার জন্য নিরাপদ?

গ্রিন টি মানেই যে সবার জন্য নিরাপদ হবে বিষয়টি এমন নয়। যেমন ধরুন আপনার যদি আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা থাকে, তবে আপনাকে গ্রিন টি পানে সচেতন হতে হবে। অন্যান্য চায়ের মতো, গ্রিন টিতে ট্যানিন নামক প্রাকৃতিক যৌগ রয়েছে। এই যৌগগুলি আয়রনের শোষণে হস্তক্ষেপ করে – এই কারণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সাথে গ্রিন টি পান থেকে বিরত থাকতে হবে।  

অনেকেই আবার ঔষধি উদ্দেশ্যে গ্রিন টি পান করেন। তবে যারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন তাদের অবশ্যয় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গ্রিন টি পান করা উচিৎ। 

গ্রিন টির সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি

গ্রিন টিতে যেমন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে ঠিক তেমনি আবার, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শরীরিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই সচেতন ভাবেই গ্রিন টি পান করা উচিত।

  • গ্রিন টি-তে উপস্থিত ট্যানিন পাকস্থলীর অ্যাসিড বাড়ায় ফলে পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। এছাড়াও পেট খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই গ্রিন টি খালি পেটে খাওয়া যাবে না। খাওয়ার পরে বা খাবারের মধ্যে গ্রিন টি পান করা ভালো।
  •  গ্রিন টিতে রয়েছে ক্যাফেইনের প্রভাব, সুতরাং অত্যধিক ক্যাফেইন খাওয়া উদ্বেগের অনুভূতি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এছাড়াও ঘুমের ব্যঘাত ঘটাতে পারে। আবার কারো কারো পেট খারাপ এবং মাথাব্যাথার কারণ হতে পারে। 
  • গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণে গ্রিন টি গ্রহণ করলে তা বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি এবং গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের গ্রিন টি পানের পূর্বে একজন ডাক্তার বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে কথা বলা উচিত।
  •  গ্রিন টির নির্যাসে রয়েছে উচ্চ ঘনত্ব, ফলে অতিরিক্ত গ্রিন টি পানে লিভার কে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে।

গ্রিন টির স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। তবে এর ঝুঁকির চেয়ে উপকারী দিক অনেক বেশি। শুধুমাত্র নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রেখে, সচেতনভাবে অথবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রিন টি নিয়ম করে পান করতে পারলে অপকারের চেয়ে উপকারই বেশি মিলবে।

What do you think?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

GIPHY App Key not set. Please check settings

some-essential-food-habits-to-get-rid-of-sudden-depression

হুটহাট মন খারাপ থেকে মুক্তির কিছু আবশ্যকীয় খাদ্যাভ্যাস

Alarm Clock

অ্যালার্ম ক্লকঃ সময়ের কাজ সময়েই হোক