চারদিকে এখন অন্যরকম আবহাওয়া। রমজান মাস আসছে। মহল্লা, প্রতিবেশি বা বাজারে রমজান মাসের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সবাই রমজান মাসের চাঁদ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি। রমজান মাস মানেই সৃষ্টিকর্তার ইবাদতে মগ্ন থাকা। এসময় ইফতারে প্রধান হলো, ঠান্ডা শরবত কিংবা রাস্তার মোড়ের থেকে আসা তেলেভাজার ঘ্রাণ।
ইফতারে তেলেভাজার কদর সর্বত্র। বেগুনী হোক বা ডিম এবং আলুর চপ, এগুলো না হলে ইফতার অসম্পূর্ণ। তবে এসব প্রস্তুত করতে দরকার হয় বেসনের। বেসন তৈরির জন্য আমরা রমজানের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেই। কেউ একত্রে দোকান থেকে তৈরি করে আনেন, কেউ আবার খোলা বেসন কিনে খান, যা কিনা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খারাপ। কারণ, এতে বিভিন্ন ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয়।
এর থেকে ভালো বাসাতেই বেসন তৈরি করে নেয়া। আজ আমরা জানব কীভাবে বাসায় সহজেই তৈরি করতে পারবেন বেসন।
বাড়িতেই বেসন বানানোর উপায়
বেসন বানানোর জন্য ডাল দরকার। কারণ, এটাই বেসনের মূল উপকরণ। আর বেসনকে মিহি করতে দরকার কোনো গুঁড়ো করার যন্ত্র। সেটা আপনার বাড়িতে থাকা শিলপাটাও হতে পারে। হতে পারে ব্লেন্ডারও। আমরা আজ কয়েক ভাবেই বেসন তৈরির উপায় জানব। প্রথমেই একটা সহজ পদ্ধতি জেনে নেই, যাতে কিনা আপনি অল্প সময়ের মধ্যেই বাসায় বেসন বানিয়ে নিতে পারবেন।
বুটের ডালের বেসন
প্রয়োজনীয় উপকরণ-
- বুটের ডাল (পরিমাণমতো)
- গুঁড়ো করার জন্য শিলপাটা বা ব্লেন্ডার
বেসন তৈরির প্রণালী-
- প্রথমে প্রয়োজন অনুযায়ী বুটের ডাল নিয়ে ভলো করে ধুয়ে নিন।
- এবার তা রোদে দিয়ে কদিন ভালো করে শুকান।
- শুকিয়ে গেলে চুলায় প্যান বসিয়ে, তাতে ১০-১৫ মিনিটের মতো ভাজুন। তখন বুটের ডালটা হালকা আঘতেই ভেঙে যাবে।
- এবার ব্লেন্ডারে নিয়ে সবটা বুটের ডাল গুড়া করে নিন। তারপর একটা বড় ছাঁকনি দিয়ে সবটা ছাঁকুন। এতে করে মিহি গুঁড়া হওয়া অংশ আলাদা হয়ে যাবে।
- বাকিটা প্রয়োজনে আবারো ব্লেন্ডার করুন। আবারো ছেঁকে, এবার গুঁড়া করা মিহি অংশ আরো একদিন রোদে দিন।
ব্যস, তৈরি হয়ে গেলো ঘরোয়া বেসন।
অন্যান্য ডালের বেসন
মুগ ডাল, মসুর ডাল বা অন্যান্য ডালের বেসন আমাদের দেশে প্রচলিত। তাই এসব ডালের বেসন আলাদা করে তৈরি করতে হলে, বুটের ডালের বেসন তৈরির পদ্ধতিটাই অনুসরণ করুন।
মিশ্র ডালের বেসন তৈরির উপায়
মসুর ডাল, বুটের ডাল এবং মাষকলাই ডাল একত্রে দিয়ে বেসন তৈরি করার নিয়মও প্রচলিত। তাহলে মিশ্র ডালের বেসন কীভাবে তৈরি করবেন, চলুন তা জেনে নেওয়া যাক।
প্রয়োজনীয় উপকরণ-
- বুটের ডাল (১ কাপ)
- মসুর ডাল (১/২ কাপ)
- মাষকলাই ডাল (১/২ কাপ)
- আতপ চাল বা পোলাও চাল (১/৩ কাপ)
এক্ষেত্রে চাইলে সাধারণ ভাতের চাল-ও ব্যবহার করতে পারবেন
তৈরির প্রণালী-
- সব ডাল এবং চাল সঠিক অনুপাতে একত্রে মিশিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।
- এবার তা রোদে ভালো ভাবে শুকান।
- শুকানো হয়ে গেলে প্যানে ৭-৯ মিনিট সব ভেজে নিন।
- এবার ব্লেন্ডারে একটু একটু করে ভালো ভাবে ব্লেন্ড করে মিহি গুঁড়া করুন।
- ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন।
- সবশেষে তা আরো এক দিন রোদে দিয়ে টাটকা করে নিন।
তৈরি হয়ে গেলো মিশ্র ডালের বেসন।
বেসন নিয়ে আরও কিছু
- বেসন তৈরি করতে, আপনারা চাইলে পছন্দমতো যেকোনো ডাল ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে অনুপাতের দিকে। বুটের ডাল কতটা দিচ্ছেন, মসুর ডাল কতটা ব্যবহার করছেন, এসবের অনুপাত ঠিক রেখে বেসন তৈরি করলে, তা দিয়ে তৈরি খাদ্য সুস্বাদু হয়।
- ভাত বা পোলাওয়ের চাল না দিলেও চলে। এটা স্কিপ করলে কোনো সমস্যা হবে না (এটা স্বাদে পার্থক্য আনে না, অবশ্য পোলাওয়ের চাল ব্যবহারের ফলে স্বাদে তারতম্য দেখা দিতে পারে)।
- যাদের অ্যালর্জির সমস্যা আছে, তারা মাষকলাই ডাল ব্যবহার করবেন না। এটা শরীরে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বেসন কতদিন সংরক্ষণ করতে পারবেন?
ঘরোয়া বেসন তৈরি করার পর তা কমপক্ষে এক দিন রোদে দিতে হয়। তারপর যেকোনো একটি এয়ারটাইট বয়ামে করে এই বেসন সংরক্ষণ করতে হবে। তাহলে, টানা ৫ মাসের বেশি সময় ধরে এটা সংরক্ষণ করতে পারবেন।
তবে, মাঝে মাঝে রোদে দেয়া ভালো। কারণ, এতে পোকার আক্রমণ থেকে বেসন রক্ষা করা সম্ভব।
সবশেষে, রমজান মাস মুসলিমদের জন্য পবিত্র এক মাস৷ তাছাড়া বর্তমানে এই অসুস্থতার যুগে সুস্থ থাকাটও জরুরী। তাই, বাজার থেকে ক্যামিকেল যুক্ত বেসন না কিনে, বাড়িতে বসেই বেসন প্রস্তুত করে নিন। আশা করি, লেখাটি থেকে আপনারা বেসন তৈরির সঠিক পদ্ধতি জেনে গেছেন। লেখাটি ভালো লাগলে অবশ্যই শপিং সেবা সাইটটি ফলো করে রাখবেন। ধৈর্য নিয়ে সম্পূর্ণ লেখা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
GIPHY App Key not set. Please check settings