আপনার ত্বক কি তৈলাক্ত (অয়েলি স্কিন)? শীতে আপনার তৈলাক্ত ত্বকের বিশেষ যত্ন নিয়ে কি আপনি চিন্তিত? তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য!
তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে আমরা অনেকেই অনেক বেশী দুশ্চিন্তায় থাকি। কারণ এই ধরনের ত্বকে ব্রণ, ফুসকুড়ি ইত্যাদির সমস্যা বেশী দেখা যায়। ত্বকে তেলতেলে ভাব হয় মূলত অতিরিক্ত পরিমানে সিবাম তৈরি হলে। সিবাম তৈরি হয় আমাদের ত্বকে থাকা সেবাসিয়াম গ্রন্থিতে। যদি এই গ্রন্থি অতিরিক্ত পরিমানেই সিবাম উৎপাদন করে তবে আমাদের ত্বকে তৈলাক্ত ভাব বেড়ে যায়। যদিও এই তৈলাক্ত পদার্থটি আমাদের ত্বক ও চুলের সুরক্ষা করে এবং এদের স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে। তবে জেনেটিক সমস্যা, হরমোনের অসামঞ্জস্য এমনকি মানসিক চাপ ইত্যাদি কারনে এই উপাদানটির উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নেয়া একটু কঠিন কাজ। আপনি নিজেও যদি তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নিয়ে চিন্তিত থাকেন তাহলে নিচে আমাদের দেয়া টিপসগুলো অনুস্মরণ করতে পারেন।
১। ময়েশ্চারাইজারকে কখনো না নয়
আপনার ত্বক তৈলাক্ত তার মানে কিন্তু এই নয় যে শীতকালেও আপনার ত্বক তৈলাক্ত থাকবে। এমনকি অনেকের তৈলাক্ত ত্বকও শীতে এশে শুষ্ক হয়ে ফেটে পর্যন্ত যেতে পারে। তাই ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখার জন্য শীতেও ভালো মানের ময়েশাচারাইজার ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভিটামিন ই সমৃদ্ধ ময়েশাচারাইজার খুব ভালো কাজ করে তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেই এটি ব্যবহার করা উচিত।
২। স্ক্রাবিং করতে ভুলবেন না
শীতে ত্বক শুষ্ক হলে ত্বকে প্রচুর মরা চামড়া দেখা যায়। এই মরা চামড়া পরিস্কার না করলে ত্বক যেমন ম্লান দেখায় তেমন সেখানে ধুলা ময়লাও প্রচুর আটকায়। তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত স্ক্র্যাবিং করা উচিত। যদিও নানাবিধ ঘরোয়া উপকরণে স্ক্র্যবিং করা যায় তবে বাজারেও নানা ধরনের তৈরি স্ক্র্যাবিং প্যাক পাওয়া যায়। আপনার ত্বকের ধরন বুঝে ভালোমানের প্যাক কিনে নিতে পারেন। ত্বক পরিস্কার রাখতে শীতকালে অন্তত সপ্তাহে তিন দিন স্ক্র্যাবিং করা উচিত।
৩। মেকআপ পন্য কেনার আগে দেখে কিনুন
বিভিন্ন ধরনের মেকআপ পন্যতে প্রাকৃতিক তেল থাকে যা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো নয়। তাই কেনার সময় দেখে কিনুন। এমন ফাউন্ডেশন কিনুন যেগুলো তরল, তেল মুক্ত এবং আদ্র। এছাড়াও আপনি পাওডার ফর্মে থাকে এমন পন্যও ব্যবহার করতে পারেন।
আপনি শরীরের জন্য সাবান ব্যবহার না করে লিকুইড বডি ওয়াস ব্যবহার করতে পারেন। অথবা সাবান ব্যবহার করলেও তাতে যেন ময়েশ্চারাইজার থাকে সেটা দেখে কিনুন। আর মুখের জন্য শীতে সাবানের পরিবর্তে তেল মুক্ত ফেস ওয়াস ব্যবহার করতে পারেন।
৪। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করুন
শীতে আপনার তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে ভরসা করতে পারেন কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের উপর। যেমন অ্যালোভেরা। শীতকালে বাতাসে উড়ে বেরানো ধুলাবালি আমাদের তৈলাক্ত ত্বকে আটকে ত্বককে ময়লা করে ফেলে। ফলে ব্রণের উৎপাত বেড়ে যায়। তাই বাইরে থেকে এসে অ্যালোভেরা জেল মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষন পর ধুয়ে ফেলুন। ময়লার পাশাপাশি ত্বকের রোদে পোড়া ভাবও কেটে যাবে।
ত্বকে অতিরিক্ত ময়লা জমলে ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এই ময়লা পরিস্কারের জন্য শীতে ব্যবহার করতে পারেন টমেটো। টমেটোর রসের সাথে এক চামচ চিনি মিশিয়ে নিন। তারপর মুখে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ৫ মিনিট রেখে দিন। হালকা গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। টমেটো খুব ভালো টোনারের কাজও করে।
৫। প্রচুর পরিমানে পানি খান
শীতে আমাদের পানি পানের পরিমান কমে যায়। কিন্তু শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে আমাদের শীতেও প্রচুর পরিমানে পানি খাওয়া উচিত। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮/১০ গ্লাস পানি পান করুন সম্ভব হলে আরো বেশী পান করুন। কারন শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে গেলে ত্বকে ব্রণের পরিমানও কমে যাবে।
৬। সানস্ক্রিন অবশ্যই চাই
শীতেও সানস্ক্রিনকে না বলা যাবে না। বাড়ির বাইরে গেলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকের সাথে মানানসই পন্য দেখে কিনুন। পন্যটিতে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশী যেন থাকে তা দেখে কিনুন। এতে ত্বক সূর্যের ক্ষতিকর রস্মি থেকে নিরাপদ থাকবে এবং ত্বক আদ্রতাও হারাবে না। কেননা রোদে পোড়া ত্বকের বিশেষ যত্ন নেয়ার দরকার পরে।
শীতে তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। সচেতন থাকলে আর একটু যত্ন নিলে শীতেও আপনার ত্বক উজ্জ্বল ও ঝলমলে থাকবে। আর যত্ন নেয়ার জন্য আমাদের দেয়া টিপসগুলো অনুস্মরণ করতে পারেন। এতে খুব সহজেই ঘরোয়া উপায়ে তৈলাক্ত ত্বককে ভালো রাখতে পারবেন।


