পরিপাকতন্ত্র কি
পরিপাকতন্ত্র আমাদের শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ন একটি অংগ। এটি খাবার হজম প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি জড়িত। তাই শরীরের সামগ্রীক সুস্থতার জন্য এই অংগটির ভালো থাকা জরুরি। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার এই কাজটির জন্য গুরত্বপূর্ন। আজকে আমরা পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখার জন্য কিছু প্রোবায়োটিক খাবার নিয়ে আলোচনা করবো।
আমাদের পরিপাকতন্ত্রের সুস্থতা আমাদের শরীরের সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করে। এই কারনে অন্ত্র বা গাট ভালো রাখা অতীব জরুরী। বিশেষজ্ঞগণ তাই পরিপাকতন্ত্রকে আমাদের দ্বিতীয় মস্তিস্ক বলে অভিহিত করেছেন। অন্ত্র হজমে সাহায্য করে, পুষ্টি শোষন করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ভালো ঘুম আনে, এমন কি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করে। অর্থাৎ আপনার পুরো শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে একটি সুস্থ অন্ত্র। অন্ত্রের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন প্রোবায়োটিক। চলুন দেখি প্রোবায়োটিক কিভাবে অন্ত্রকে ভালো রাখে।
প্রোবায়োটিক খাবার কি কি
প্রোবায়োটিক মূলত এক ধরনের অণুজীব, যেটাকে ভালো ব্যাক্টেরিয়া হিসেবেও অভিহিত করা হয়। যে সব খাবারে এই অণুজীব থাকে সেগুলো অন্ত্রকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এখানে কিছু প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার নিয়ে আলচনা করা হলঃ
১। দই
দই হল সবচেয় পরিচিত এবং জনপ্রিয় প্রোবায়োটিক খাবার। এতে প্রচুর পরিমানে একটিভ ব্যাকটেরিয়া থাকে যেগুলো আমাদের অন্ত্রের জন্য দারুন উপকারী। দই দুধ থেকে তৈরি হলেও এতে দুধের চেয়ে বেশী প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম এবং প্রোবায়োটিক থাকে। বেশি উপকারিতা পেতে আপনি ঘরেই দই বানিয়ে খেতে পারেন।
২। পনির
আমাদের দেশের বাজারে নানা রকমের পনির পাওয়া যায়। এদের মধ্যে কটেজ চিজ বা পনিরে প্রোবায়োটিক সবচেয়ে বেশী থাকে। এই পনির সাধারনত নানারকম রান্নায় ব্যবহৃত হয় এবং এতে প্রোটিনও অনেক বেশী মাত্রায় থাকে। এতে অ্যাসিডের পরিমান কম থাকায় ভালো ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে সাহায্য করে। ফার্মেন্টেশনের পরেও পানিরে আসল দুধের প্রায় ৯০% ফ্যাট এবং প্রোটিন, ৫০% মিনারেল, এবং ১০% ল্যাক্টোজ বর্তমান থাকে।
৩। বাটার মিল্ক বা ঘোল
বাটার মিল্ক বা ঘোল আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয় ও সুপরিচিত পানীয়। অন্যান্য দুগ্ধজাত পন্যের মত, এতেও প্রচুর পরিমানে প্রোবায়োটিক রয়েছে। দই এর মতই এর স্বাদও কিছুটা টক। খাবারের পরে এক গ্লাস বাটার মিল্ক পান করলে আপনার হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। শুধু তাই নয়, এটি আপনার অভ্যন্তরীণ সিস্টেম যে ভালো অবস্থায় আছে তা নিশ্চিত করে। বাটার মিল্ক বা ঘোল বয়স্ক লোকদের জন্য বেশ উপকারী পানীয়।
৪। পান্তা ভাত
পান্তা ভাত বাঙ্গালীদের অনেক প্রিয় একটি খাবার। পান্তা ভাত খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমাদের দেশে কেবল পহেলা বৈশাখে নয়, বরং সারা বছর বিশেষকরে গরমের সময় পান্তা ভাত অনেক বেশি খাওয়া হয়। ভাত সারারাত পানিয়ে ভিজিয়ে রাখার কারনে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। এই ব্যাকটেরিয়া আমদের অন্ত্রের জন্য উপকারী। এই কারনে পান্তা ভাতকে প্রোবায়োটিকের সমৃদ্ধ উৎস হিসেবে ধরা হয়। এই ভাত লবন, পেয়াজ, মরিচ ইত্যাদি দিয়ে খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে।
৫। আপেল
বলা হয়ে থাকে, প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তার আপনার থেকে দূরে থাকবে। যদিও এটা হয়ত পুরোপুরি সত্য নয় তবে আপেল ফাইবারে খুবই সমৃদ্ধ এবং এটি প্রোবায়টিকেরও একটি সমৃদ্ধ উৎস। নিয়মিত আপেল খেলে হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রে ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করে।
৬। মটর শুঁটি
মটর শুঁটি সবুজ সকল সবজির মধ্যে প্রোবায়োটিকের সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর একটি। জার্নাল অফ অ্যাপ্লাইড মাইক্রোবায়োলজিতে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে মটর শুঁটিতে লিউকোনোস্টক মেসেন্টেরয়েডস থাকে যা একটি শোক্তিশালী প্রোবায়োটিক। তাই সালাদ, তরকারি এবং সবজিতে উদার হস্তে মটর শুঁটি যোগ করুন এবং আপনার হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করুন।
৭। আচার
অনেকেই মনে করেন আচারে থাকা তেল ও লবনের কারনে আচার স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ। তবে এটি শুধুই ভুল ধারনা ছাড়া কিছুই না। কারন আচার প্রোবায়োটিকের খুব ভাল একটি উৎস এবং এগুলো অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে। আম, গাজর, লেবু, রসুন, মরিচের আচারের মধ্যে থাকা সবজি বা ফল লবন, চিনি, মশলা সহ তেলে ভেজানো হয় এবং বেশ কিছুদিনের জন্য রোদে রাখা হয়। এই পদ্ধতিটি ভালো ব্যাকটেরিয়া উৎপাদনের জন্য খুবই উপযুক্ত। তবে দোকান থেকে কিনে আনা আচার থেকে এই উপকারীতা নাও পাওয়া যেতে পারে কারন এতে প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে না।
পরিশেষে, পরিপাকতন্ত্রকে ভালো রাখার জন্য কিছু প্রোবায়োটিক খাবার নিয়ে আলোচনা করা হল। খুবই সাধারন এই খাবারগুলোর সাথে আমরা সবাই পরিচিত। খুব সহজেই আমরা আমাদের প্রতিদিনের ডায়েটে এই খাবারগুলো অন্তর্ভূক্ত করতে পারি। তাই আপনার পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ ও শক্তিশালী করতে উপরের খাবারগুলো আপনার পছন্দমত নিয়মিত গ্রহন করুন, সুস্থ থাকুন।


